বিশ্বকাপের কথা চিন্তা করে ‘বিপিএলের মাঠ নিয়ে বিশেষ এক পরিকল্পনা কথা জানালো বিসিবি

বিশ্বকাপের কথা চিন্তা করে ‘বিপিএলের মাঠ নিয়ে বিশেষ এক পরিকল্পনা কথা জানালো বিসিবি
বিশ্বকাপের কথা চিন্তা করে ‘বিপিএলের মাঠ নিয়ে বিশেষ এক পরিকল্পনা কথা জানালো বিসিবি

বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের যেকোনো ব্যর্থতার পর নিয়মিতই বড় হয়ে সামনে আসে উইকেট। ঘরের মাঠে ভালো উইকেটে না পাওয়ার আক্ষেপের কথা প্রায়ই বলেন ক্রিকেটার ও কোচরা। সেটি মাথায় রেখে এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে বিপিএলে ব্যাটিংবান্ধব উইকেট তৈরি করতে চায় বিসিবি।

আগামী ১৯ জানুয়ারি শুরু হবে বিপিএলের দশম আসর। প্রতিবারের মতো এবারও বেশিরভাগ খেলা হবে মিরপুরের শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। টুর্নামেন্টের অন্য দুই ভেন্যু সিলেট ও চট্টগ্রামে তুলনামূলক রান হলেও, মিরপুরের মাঠে প্রায়ই দেখা যায় রানখরা। নিয়মিতই হয় ১৩০-১৪০ রানের ম্যাচ।

এবার যেন তেমন কিছু না হয় তাই আগে থেকেই তৎপর বিসিবি। টুর্নামেন্টের দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় বাকি থাকতে বুধবার পিচ কিউরেটরদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বোর্ডের মাঠ কমিটি। বিপিএলের সব ম্যাচেই ব্যাটিংবান্ধব উইকেট প্রস্তুত করার ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তাদের।

বৈঠক শেষে মাঠ কমিটির প্রধান মাহবুব আনাম সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানান, তাদের চোখ মূলত আগামী জুনে হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে।

“টি-টোয়েন্টি ব্যাটসম্যানদের খেলা। আমরা চাই এখানে (বিপিএল) প্রচুর রান হোক। অবশ্যই ব্যাটসম্যানের দক্ষতা থাকতে হবে। বোলারেরও দক্ষতা থাকতে হবে। আগামী বিশ্বকাপ সামনে রেখে আইসিসি টুর্নামেন্টগুলোতে যে ধরনের উইকেট হয়, আমরাও (বিপিএলে) তেমন উইকেট তৈরির চেষ্টা করব।”

এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বৈরী আবহাওয়ার কারণে যে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে হতে পারে, সেটিও মাথায় রাখছেন বোর্ডের এই পরিচালক।

“আবহাওয়া ও কন্ডিশনের কারণে… এখন যেমন কুয়াশা, শৈত্যপ্রবাহ চলছে, শুরুতে হয়তো কিছুটা কঠিন হবে। তবে চেষ্টা থাকবে ভালো উইকেট, আগামী বিশ্বকাপের সমতুল্য উইকেট তৈরির। সেটাই তাদেরকে (কিউরেটর) বলা হয়েছে। যাতে আমাদের ব্যাটসম্যানরা যারা খেলবে তারা যেন এখান থেকেই বিশ্বকাপের একটা প্রস্তুতি নিতে পারে।”

মিরপুরে গত মাসে নিউ জিল্যান্ড সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের উইকেট ‘অসন্তোষজনক’ রেটিং পায় আইসিসির কাছ থেকে। একইসঙ্গে একটি ডিমেরিট পয়েন্টও দেন ম্যাচ রেফারি ডেভিড বুন।

মাহবুব আনাম জানালেন, এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছে বিসিবি।

“এটা (ডিমেরিটের বিরুদ্ধে আপিল) এরই মধ্যে প্রক্রিয়াধীন। বোর্ডের প্রধান নির্বাহী এ বিষয়টি নিয়ে আইসিসির সঙ্গে কাজ করছে। তো এটি এখন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

মিরপুরের উইকেটকে শাস্তি দিয়ে ম্যাচ রেফারির প্রতিবেদনে ডেভিড বুন লেখেন, ওই ম্যাচের উইকেট তার কাছে অপ্রস্তুত বলে মনে হয়েছে। বিসিবির মাঠ কমিটির প্রধানও প্রচ্ছন্নভাবে মেনে নেন, উইকেট ঠিক প্রস্তুত ছিল না।

তবে এর পেছনে আবহাওয়া ও প্রকৃতির দায় দেন তিনি। তার আশা, সার্বিক দিক বিবেচনা করে ডিমেরিট পয়েন্ট উঠিয়ে নেবে আইসিসি।

“আমি আগেও বলেছি, এই ডিমেরিট পয়েন্ট খুবই হতাশাজনক। আবহাওয়া আমাদেরকে (ভালো উইকেট) করতে দেয়নি। খেলাটা শুরু হওয়ার আগে… দশ দিন আগেও বৃষ্টি ছিল, দুই দিন আগে থেকেও বৃষ্টি। খেলা চলাকালেও আমরা কোনো সূর্যের আলো পাইনি। যে কারণে উইকেট প্রস্তুতি বিঘ্নিত হয়েছে। সেজন্যই আমি হতাশ যে আমাদের এই পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয়নি।”

“আগেও এমন হয়েছে যে, ডিমেরিট পয়েন্ট দেওয়ার পর যখন প্রমাণ হয়েছে যে অন্যান্য পরিস্থিতির কারণে উইকেট প্রস্তুতি বিঘ্নিত হয়েছে, তখন ডিমেরিট পয়েন্ট তুলে নেওয়া হয়েছে।”

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*